প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১২১): হজ্জ করতে গিয়ে অনেকে সেখানে মৃত্যুবরণ করার নিয়ত করে। এতে কোন কল্যাণ আছে কি?
-সৈয়দ ফয়েয
ধামতী মীরবাড়ী, কুমিল্লা।
উত্তর : হজ্জের নিয়তের সাথে সেখানে মৃত্যুবরণ করারও নিয়ত করা যায়। এতে কল্যাণ আছে। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, যারা মদীনায় মৃত্যুবরণ করবে তাদের জন্য আমি সুফারিশ করব (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৭৫০)। ওমর (রাঃ) নিম্নরূপ দো‘আ করতেন, اللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ شَهَادَةً فِى سَبِيْلِكَ وَاجْعَلْ مَوْتِىْ فِىْ بَلَدِ رَسُوْلِكَ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার পথে শাহাদতবরণ করার রিযিক দান করুন এবং আপনার রাসূলের শহরে মৃত্যুদান কারুন’ (বুখারী হা/১৮৯০)। বস্ত্ততঃ রাসূল (ছাঃ)-এর মসজিদে ছালাতের ইমামতি করা অবস্থায় তিনি মুছল্লীবেশী ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে শহীদ হন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন
প্রশ্ন (২/১২২) : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত কারণ চিহ্নিত না করেই পরিবহনের মালিকের নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
-মাহফূযুল ইসলাম
বাগহাটা, নরসিংদী।
উত্তর : মানুষ নিহত হওয়ার কারণ ৩টি- ভুলক্রমে, ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা ও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার ন্যায় হত্যা করা। গাড়ী দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলে উক্ত ৩টি কারণের যেকোন একটির মধ্যে পড়ে যায়। প্রথম ও তৃতীয় কারণে হত্যাকান্ড সংঘটিত হলে ১০০টি উট বা তার সমপরিমাণ মূল্যের রক্তপণ দিতে হবে। আর দ্বিতীয় কারণে নিহত হলে তার শাস্তি হল- মৃত্যুদন্ড। তবে যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছগণ ক্ষমা করে দিয়ে রক্তপণ নিতে চায়, তাহলে তা করা যাবে (বাক্বারাহ ১৭৮; দারাকুৎনী, বুলূগুল মারাম হা/১১৭৭, ১১৭৮)
আহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ হল: সম্পূর্ণ নাক, চোখ, জিহবা, ঠোঁট কাটা গেলে, মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেলে বা অন্য কোন অঙ্গ কেটে গেলে ১০০ টি উট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া সাধারণ ক্ষতি হলে প্রতি ক্ষতির বিনিময়ে ১০টি করে উট দিতে হবে। একটি দাঁতের জন্য পাঁচটি উট দিতে হবে (নাসাঈ হা/৪৮৫৩; মিশকাত হা/৩৪৯২; বুলূগুল মারাম হা/১১৭৫, সনদ ছহীহ)। প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার দায়িত্ব আদালতের কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের। তারা সেটা নির্ধারণ করার পরই ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। নইলে সেটা যুলুম হবে। আর যুলুম করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন (৩/১২৩) : জনৈক আলেম বলেন, কাউকে সাপে দংশন করলে সূরা ফাতিহা সাতবার পড়ে তার উপর দম করবে। অতঃপর অর্থহীন মন্ত্র পড়তে হবে। যেমন- সিজ্জাতুন তারানি য়্যাতুন মিলহাতু বাহরিন কাফাত্বা। প্রশ্ন হল, উক্ত পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক করা যাবে কি?
-হাবীবুর রহমান
বোয়ালকান্দি, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : সাপে দংশন করলে সূরা ফাতেহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করা যায় (বুখারী হা/৫০০৭)। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহ্র দো‘আ ছাড়া মন্ত্র পড়ে ঝাড়ফুঁক করলে শিরক হবে (আবুদাঊদ হা/৩৮৮৩; মিশকাত হা/৪৫৫২)। এইরূপ ঝাড়-ফুঁক করা যাবে না।
প্রশ্ন (৪/১২৪) : ডাঃ যাকির নায়েকের লেকচারে শুনেছি, ‘গসপেল অব ম্যাথিউ’ গ্রন্থের ১৯ অধ্যায়ের ১৬ ও ১৭ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, একজন লোক এসে ঈসা (আঃ)-কে বলল, হে মহান শিক্ষক! জান্নাতে যাওয়ার জন্য আমি কী কী কাজ করব? ঈসা (আঃ) বললেন, তুমি আমাকে মহান বলছ কেন? মহান একজন ছাড়া আর কেউই নন। তিনি হলেন আল্লাহ। প্রশ্ন হ’ল, আমরা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে মহান বলতে পারি কি? এছাড়া অনেকে বলে, মহান নেতা, মহান মে দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি। এগুলো বলা যাবে কি?
-আমীনুল ইসলাম
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।
উত্তর : মহান বিশেষণটি সর্বাপেক্ষা বড় বুঝায়। তাই মহান সত্তা হিসাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তবে বাংলায় এটি উদার ও বড় অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান হৃদয়। সে হিসাবে মহান নেতা বলায় শিরক হবে না। মে দিবস বা স্বাধীনতা দিবসকে মহান বলার কোন যুক্তি নেই। কেননা এগুলি কোন ব্যক্তি বা সত্তা নয়।
প্রশ্ন (৫/১২৫) : আমি একজন  সোনামণি। বয়স ১২ বছর। ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ি। আম্মা, বড় ভাই, বড় বোন আমাকে ছালাত আদায় করার জন্য খুব তাকীদ করেন। আমি ছালাত পড়ি, কিন্তু যোহর ও আছর পড়তে পারি না। কারণ তখন ক্লাসে থাকি। শুনেছি ওয়াক্তমত ছালাত আদায় না করলে আল্লাহ কবুল করেন না। এমতাবস্থায় করণীয় কী?
-মুসাম্মাৎ হাবীবা আখতার
রামপুর দক্ষিণপাড়া, কালিহাতী, টাংগাইল।
উত্তর : সময় মত ছালাত আদায় করতে হবে এটাই আল্লাহ্র নির্দেশ (নিসা ১০৩)। তাই ছালাত আদায়ের জন্য প্রধান বা শ্রেণী শিক্ষকের নিকট থেকে ছুটি নিতে হবে। ছুটি না পেলে উক্ত প্রতিষ্ঠান বর্জন করতে হবে এবং যেখানে ক্লাস রুটিনের মাঝে সঠিক সময়ে ছালাত আদায় করার সুযোগ আছে সেখানে ভর্তি হতে হবে।
এটা সম্ভব না হলে দুই ওয়াক্তের ছালাত দুই ইক্বামতে এক সঙ্গে (৪+৪=৮) জমা করতে হবে (বুখারী হা/১১৭৪)। কখনো যোহর ছালাতকে আছরের ওয়াক্তে এবং কখনো আছর ছালাতকে এগিয়ে নিয়ে যোহরের সময় পড়তে হবে (আবুদাঊদ হা/১২১০; মিশকাত হা/১৩৪৪)। সুতরাং ক্লাস শেষ হওয়ার পর যোহর ছালাতের সময় থাকলে তখনই ছালাত আদায় করে নিতে হবে। অন্যথায় আছর ছালাতের সময় তা আদায় করবে। তবে এটি নিয়মিতভাবে করা উচিত নয়।
প্রশ্ন (৬/১২৬) : মসজিদ দেখার কোন দো‘আ আছে কি? ‘আল্লাহুমাগ ফিরলী যুনূবী খাত্বায়ী ওয়া ‘আমাদী’ নামে দো‘আটির কোন দলীল আছে কি?
-ডাঃ আ.ন.ম. বযলুর রশীদ
চন্ডিপুর, যশোর।
উত্তর : মসজিদ দেখার কোন দো‘আ পাওয়া যায় না। তবে উক্ত দো‘আটি ছহীহ (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৬৬২; আহমাদ হা/১৬৩১৩)
প্রশ্ন (৭/১২৭) : এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার এক পর্যায়ে বলেছে, তোকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক। এভাবে আরো কয়েকবার বলেছে। কিছুদিন পরে অনুতপ্ত হয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইল। কিন্তু অনেকে বলেছে, হিল্লা ছাড়া কোন উপায় নেই। এভাবে এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। এক্ষণে তাদের একত্রিত হওয়ার কোন সুযোগ আছে কি?
-আব্দুর রহমান
সরিষাবাড়ী, জামালপুর।
উত্তর : এক বৈঠকে একই সাথে তিন বা ততোধিক তালাক দিলে এক তালাক বায়েনাহ গণ্য হবে (মুসলিম হা/৩৬৫৭)। ইদ্দতের মধ্যে হ’লে স্বামী সরাসরি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে। আর ইদ্দত পার হয়ে গেলে নতুন বিয়ের মাধ্যমে আবার তাকে স্ত্রী হিসাবে  গ্রহণ করা যাবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/৩০৬)। এক্ষেত্রে হিল্লা প্রথার আশ্রয় নেওয়া হারাম। এ কাজ যে করে দিবে এবং যার জন্য করা হবে উভয়ের উপর আল্লাহ ও আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) লা‘নত করেছেন (দারেমী, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩২৯৬)। বিস্তারিত দেখুন : ‘তালাক ও তাহলীল’ বই।
প্রশ্ন (৮/১২৮) : জুম‘আর খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে সালাম দেওয়া ও দুই রাক‘আত সুন্নাত পড়া যাবে কি?
-ওমর ফারূক, কালিগঞ্জ, গাযীপুর।
উত্তর : যেহেতু খুৎবা চলাকালীন সময়ে মুছল্লীদের কাজ খুৎবা শ্রবণ করা, সেহেতু সালাম দেওয়া যাবে না। তবে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে বসতে হবে (বুখারী হা/৯৩১; মুসলিম হা/২০৫৭)
প্রশ্নঃ (৯/১২৯): ওশরের ধান দিয়ে জালসা করা যায় কি?
-মুযাফফর
রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : ওশর ৮ শ্রেণীর মানুষের হক। জালসা তার অন্তর্ভুক্ত নয় (তওবা ৬০)। জালসা বা অনুরূপ নেকীর কাজ সমূহ নিজেদের টাকা দিয়ে করা উত্তম।
প্রশ্নঃ (১০/১৩০) : আমি একজন দোকানদার। মাঝে মাঝে অনেক রাতে দোকান থেকে বাড়ীতে আসি। কোন কোন রাতে জিন আমাকে ভয় দেখায়। কখনো রাস্তার ধারে বিশাল মূর্তি আকারে দাঁড়িয়ে থাকে। কখনো কোন পশুর রূপ ধারণ করে। এ বিষয়ে গ্রামের এক আলেমকে বললে তিনি এ সময় আযান দিতে বলেন। তাহ’লে শয়তান পালিয়ে যাবে। উক্ত কথা কি সঠিক? এ থেকে বাঁচার উপায় কী?
-আলতাফ
জয়পুর, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাতের সময় আযান দিলে শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৫৫)। কিন্তু শয়তান কর্তৃক আক্রান্ত হলে আযান শুনলে সে পালিয়ে যায় এমনটি প্রমাণিত নয়। তবে সূরা ফালাক্ব ও নাস পড়লে শয়তান দূরে  সরে যায় (আবুদাঊদ হা/১৪৭৩; মিশকাত হা/২১৬২ ও ২১৬৩)। অনেক সময় মনের ভয় থেকে মানুষ জিন-ভূত দেখে। আসলে হয়ত কিছুই নয়। অতএব মনে সাহস রাখুন। আল্লাহ্র উপর ভরসা করুন এবং সূরা ফালাক্ব ও নাস পড়ুন। শয়তান পালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন (১১/১৩১) : ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) ক্রন্দনরত অবস্থায় তাওয়াফ করতে করতে বলতেন,  হে আললাহ!  যদি আমার ভাগ্যে মন্দ ও পাপকর্ম লিপিবদ্ধ থাকে, তাহলে উহা মিটিয়ে দিন। কারণ আপনি ইচ্ছা করলে মিটিয়ে দিতে পারেন এবং বহালও রাখতে পারেন। আপনার কাছে উম্মুল কিতাব রয়েছে। আপনি আমার তাক্বদীরকে কল্যাণময় করুন এবং গুনাহ ক্ষমা করুন। হাদীছটি কি ছহীহ? উক্ত দো‘আ সিজদা ও তাশাহহুদে বলা যাবে কি? বলা গেলে দো‘আটি হরকতসহ আরবীতে তুলে ধরার বিনীত অনুরোধ করছি।
-আব্দুল মতীন
গাড়াবাড়ী, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর :বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৪৪৮ -এর আলোচনা দ্রঃ)। উক্ত দো‘আ সিজদা ও তাশাহহুদে পড়া যাবে। দো‘আটি নিম্নরূপ:
اَللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ كَتَبْتَ عَلَىَّ شَقْوَةً أَوْ ذَنْباً فَامْحُهُ فَإِنَّكَ تَمْحُو مَا تَشَاءُ وَتُثْبِتُ وَعِنْدَكَ أُمُّ الْكِتَابِ فَاجْعَلْهُ سَعَادَةً وَمَغْفِرَةً. ابن جرير-
প্রশ্ন (১২/১৩২) : ছহীহ হাদীছে আছে, যদি কোন সন্তান শিশু অবস্থায় মারা যায়, তাহলে ঐ সন্তান ক্বিয়ামতের দিন পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৫২)। প্রশ্ন হল, ঐ পিতা-মাতা যদি ছালাত আদায় না করে এবং শিরক-বিদ‘আতের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সেই পিতা-মাতার কী হবে?
-মুহাম্মাদ মজিদুল ইসলাম
গণিত বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : আল্লাহ তা‘আলা অনেক বান্দাকে ক্বিয়ামতের দিন সুফারিশের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন (বুখারী হা/৬৫৬৫)। কিন্তু সে সুফারিশ তাদের জন্য হবে, যারা শিরক থেকে মুক্ত। সুতরাং মুশরিক, বিদ‘আতী, ছালাত আদায় করে না এমন পিতা-মাতার জন্য শিশু সন্তানের সুফারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না (আম্বিয়া ২৮; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ ৭৪-৭৬ পৃঃ)
প্রশ্ন (১৩/৯৩) : সূরা মুহাম্মাদের ১২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যারা কুফরী করেছ, তারা ভোগ-বিলাসে লিপ্ত থাকে এবং পশুর মত আহার করে। তাদের ঠিকানা হ’ল জাহান্নাম’। এখানে ‘পশুর মত আহার করে’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে।
-মামুন, ঢাকা।
উত্তর : কাফেররা পার্থিব জীবনে চতুষ্পদ জন্তুর মত। তারা শুধু পেট ও যৌন চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকে। তারা পরজীবনের কোন চিন্তা করে না বলে পশুর মত আচরণ করে এবং নেক আমল করে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, মুমিন এক পেটে ও কাফির সাত পেটে খায়’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ; বুখারী হা/৫৩৩৯; মিশকাত হা/৪১৭৩)
প্রশ্ন (১৪/৯৪) : আমার ১ স্ত্রী, ৩ কন্যা, ১মা ৫ ভাই ও ৩ বোন আছে। আমার ১৩ বিঘা জমি সম্পূর্ণ বা কিছু আমার মেয়েদের হেবা রেজিষ্ট্রি করতে পারি কী? শুদ্ধমতে কে কতটুকু পাবে?
-মুখলেছুর রহমান
কাথুলী, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ১৩ বিঘা সম্পদকে ২৪ ভাগ করে স্ত্রী ৩ ভাগ, ৩ কন্যা ১৬ ভাগ, মা ৪ ভাগ ও ভাই-বোনরা ১ ভাগ দুই জন মেয়ে সমান একজন ছেলে অনুপাতে ভাগ করে নিবে। উল্লেখ্য যে, ভাই-বোন আসাবা সূত্রে ওয়ারিছ, বাকী অন্যরা সকলে যাবিল ফুরূয হিসাবে ওয়ারিছ বিধায় পৃথকভাবে মেয়েদের হেবা রেজিষ্ট্রি করে দেয়া বৈধ নয়। কেননা মহান আল্লাহ ওয়ারিশদের জন্য যে অংশ নির্ধারণ করেছেন সেটাই সবার জন্য কল্যাণকর। কারো হক নষ্ট করে মেয়েদের বেশী করে দেয়া শরী‘আত সম্মত নয়।
প্রশ্ন (১৫/৯৫) : ওযূ থাকা অবস্থায় অসুস্থ মাকে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে অনেক সময় হাতে পেশাব-পায়খানা লেগে যায়। এমতাবস্থায় পুনরায় ওযূ করতে হবে কি? না শুধু হাত ধৌত করলেই চলবে?
-আব্দুল আলীম
শৈলেরকান্দা, জামালপুর।
উত্তর : ওযূ অবস্থায় শরীরে কোন নাপাকী লাগলে ওযূ ভঙ্গ হয় না। যে অংশে নাপাকী লাগবে ঐ অংশটুকু ধুয়ে নিলেই চলবে (আবুদাঊদ হা/৩৭৬; মিশকাত হা/৫০২)
প্রশ্ন (১৬/৯৬) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বর ও কনের মাঝে কিভাবে বিবাহ পড়াতেন?
-মুহাম্মাদ মুহসিন
পাকের হাট, খানসামা, দিনাজপুর।
উত্তর : বিবাহ পড়ানোর সুন্নাতী পদ্ধতি হল, প্রথমে বিবাহের খুৎবা হবে। অতঃপর মেয়ের সম্মতিক্রমে দুই জন সাক্ষীর সামনে মেয়ের পিতা বা অভিভাবক বলবে, আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দিলাম। আর ছেলে বলবে, আমি কবুল করলাম। এভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর সুন্নাতী দো‘আ পড়বে- بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكُمَا وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِى خَيْرٍ (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৪৫)। মেয়ের কাছে গিয়ে সাক্ষীদের সামনে বিবাহ পড়ানোর পদ্ধতি ঠিক নয়। তবে পিতা বা অভিভাবককে অবশ্যই সাবালিকা মেয়ের সম্মতি নিতে হবে (বুখারী হা/৫১৩৬)
প্রশ্ন (১৭/৯৭) :  ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ওযূ বা ছিয়াম ভঙ্গ হবে কি?
-আব্দুল আউয়াল
পালী বাজার, দুর্গাপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ‘মযী’ নির্গত হলে ওযূ ভঙ্গ হবে। তবে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। আর ‘মযী’ নির্গত না হলে ওযূ ভঙ্গ হবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) কখনো কোন স্ত্রীকে চুম্বন করতেন এবং ওযূ না করেই ছালাতে বের হতেন (আবুদাঊদ হা/১৭৯; মিশকাত হা/৩২৩)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি ছিয়াম অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করতেন (মুসলিম হা/২৬২৮; মিশকাত হা/২০০০)। তবে রাসূল (ছাঃ) নিজেকে সর্বাধিক নিয়ন্ত্রনকারী ব্যক্তি ছিলেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০০০)
প্রশ্ন (১৮/৯৮) : মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে করণীয় কী? অনেকে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতে এবং দান-খয়রাত করতে বলেন। সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-নাজনীন খাতুন
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখলে কোন করণীয় নেই। তবে সর্বাবস্থায় তাদের জন্য দো‘আ ও ছাদাক্বা করা উচিত। মানুষের স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে (ক) ভাল স্বপ্ন- যা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সুসংবাদ বহন করে (খ) শয়তানের পক্ষ থেকে- যা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে (গ)  নিজের খেয়াল ও কল্পনা- যা স্বপ্নে দেখা যায় (মুসলিম হা/২২৬৩)
স্বপ্নে ভাল কিছু দেখলে আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করবে। চাইলে অন্যকেও সে বিষয়ে অবহিত করবে। আর খারাপ কিছু দেখলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে, বাম দিকে তিনবার আঊযুবিল্লাহ বলে থুক মারবে এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করবে। কাউকে সে বিষয়ে বলবে না (বুখারী হা/৭০৪৫)
প্রশ্ন (১৯/৯৯) : কুরবানীর পশু দ্বারা অন্যের ফসলের ক্ষতি করলে কুরবানীর ছওয়াব পাওয়া যাবে কি?
-আযাদ শাহ
ধুরইল, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : শুধু কুরবানীর পশু নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে যে কোন পশু দ্বারা কারো ফসলের ক্ষতি করা অন্যায় (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬)। কিন্ত কুরবানীর ছওয়াব তার নিয়ত অনুযায়ী আল্লাহ তাকে দিবেন (হজ্জ ৩৭)
প্রশ্ন (২০/১০০) :  মানুষের শরীরে পা লাগলে সালাম করা ও চুম্বন করা যাবে কি? পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমানো যাবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মুহাম্মাদ মুনীরুল ইসলাম
কাহারোল, দিনাজপুর।
উত্তর : মানুষের শরীরে পা লাগলে সালাম করা ও চুম্বন করার কোন বিধান নেই। তবে এটি একটি অপসন্দনীয় কাজ। তাই সৌজন্য দেখানো উচিত। পশ্চিম দিকে পা রেখে ঘুমানো যাবে। শরী‘আতে এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। তবে খোলা স্থানে পশ্চিম ও পূর্ব দিকে ফিরে পেশাব-পায়খানা করা যাবে না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৩৪)
প্রশ্ন (২১/১০১) : দেশীয় নিয়মানুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ হয়। কিন্তু আমের সময় বাজারে আম বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরা ৫০ কেজিতে এক মণ হিসাব করে। এটা কি শরী‘আত সম্মত?
-মুহাম্মাদ বেলালুদ্দীন
উদয়নগর, রহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : বাজারের প্রচলিত নীতির উপর ভিত্তি করে লেনদেন করা দরকার। আলাদা নিয়ম চালু করলে সেটা উভয়ের সম্মতিক্রমে হ’তে হবে। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, তোমরা ওযন করবে সঠিক মাপে। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্ত্ত কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাবে না (শু‘আরা ১৮২-১৮৩)
প্রশ্ন (২২/১০২) : শীতের সময় দুপুরেই বস্ত্তর ছায়া একগুণ থাকে। এ সময় যোহর ও আছর ছালাতের সময়সূচী কেমন হবে?। গরমের সময় আসল ছায়া ছোট থাকে। আর শীতের সময় বড় থাকে। এর সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আব্দুল জাববার
আলী নগর, চাপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : সূর্য ঢলার পর হতে যোহরের ছালাতের সময় শুরু হয়। কাঠির গোড়া থেকে মেপে মূল ছায়ার একগুণ হওয়া পর্যন্ত যোহরের সময় থাকবে। এরপর থেকেই আছরের ছালাতের সময় শুরু হবে (মুসলিম হা/১৪১৯)। এটা শীতকালে হোক বা গরম কাল হোক। তবে গরমের সময় একটু দেরী করে যোহরের ছালাত পড়তে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন (২৩/১০৩) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ খুব জঘন্য। একদিকে হলের বাধ্যতামূলক অসুস্থ রাজনীতি, অন্যদিকে নগ্নতার ছোবল। নাস্তিকতার আগ্রাসন তো আছেই। এমন প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করা সত্ত্বেও ঈমান হারানোর ঝুঁকি থাকে। এমতাবস্থায় সাধারণভাবে আমল করে টিকে  থাকা উত্তম হবে, না ভাল পরিবেশে থাকা উত্তম হবে? এ জন্য অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলে তাক্বদীরের কোন পরিবর্তন হবে কি ?
-মুর্তযা বিল্ল­াহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর : যেখানে ঈমান ও আমল হারানোর ঝুঁকি থাকবে সেখান থেকে অনুকূল পরিবেশে চলে যেতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, আল্লাহ্র পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না? তোমরা হিজরত করতে পারতে (নিসা ৯৭)। রাসূল (ছাঃ)  বলেন, অদূর ভবিষ্যতে মুসলমানের উৎকৃষ্ট মালরূপে গণ্য হবে ছাগল। যেগুলোকে নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় বা বৃষ্টি বহুল এলাকায় চলে যাবে, যাতে ফিতনা থেকে সে তার দ্বীনকে রক্ষা করতে পারে (বুখারী হা/১৯)। এজন্য তাক্বদীরের কোন পরিবর্তন হবে না। মন্দ ও উত্তম পরিবেশ বাছাই করার দায়িত্ব বান্দার। সে তার তাকদীরের খবর জানে না। তাই এখানে টিকে থাকাটাও তাকদীর, চলে যাওয়াটাও তাকদীর।
প্রশ্ন (২৪/১০৪) : প্রচলিত আছে যে, নেক সন্তান জন্মের সময় পরিবারে সচ্ছলতা আসে, শান্তির পরিবেশ বিরাজ করে, সমাজও শান্তিময় হয়। উক্ত কথাগুলো কি সঠিক?
-মাহফুযূর রহমান
রুয়েট, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত কথার কোন ভিত্তি নেই।
প্রশ্ন (২৫/১০৫) : কোন মুছল্ল­ী যদি জুম‘আর ছালাতের শেষ মুহূর্তে এসে হাযির হয়, তাহ’লে সে কিভাবে ছালাত আদায় করবে?
-আযীযুল হক সরকার
গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
উত্তর : যদি শেষ রাক‘আতে রুকূ পায় তাহ’লে জুম‘আর জামা‘আত পেল। ইমাম সালাম ফিরানোর পর দাঁড়িয়ে বাকি ছালাত পড়ে নিবে। রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, কেউ যদি জুম‘আর ছালাত এক রাক‘আত পায় তাহলে সে যেন ছালাত পেল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪১২)। আর যদি রুকূ না পায় তাহলে সে জু‘আমার ছালাত পেল না। তাই তাকে যোহরের চার রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে (বায়হাক্বী ৩/২০৪ পৃঃ; ইরওয়া ৩/৮২ পৃঃ)। অর্থাৎ সে জুম‘আর নিয়তে ছালাতে যোগদান করবে এবং যোহরের চার রাক‘আত আদায় করবে। মনে রাখা আবশ্যক যে, রুকূর সাথে তাকে সূরা ফাতেহা পাঠ করতে হবে। কেননা সূরা ফাতিহা ব্যতীত ছালাত হয় না (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২)
প্রশ্ন (২৬/১০৬) : যেনাকারীকে আ­ল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিনে কেমন শাস্তি দিবেন?।
-হাবীবুর রহমান
কামারপাড়া, বগুড়া।
উত্তর : যেনা অতীব জঘন্য কর্ম। তওবা ছাড়া আল্লাহ তাকে মাফ করবেন না। আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায় (ফুরক্বান ৬৯)। হাদীছে এসেছে, তাদেরকে উলঙ্গ অবস্থায় একটি পেটমোটা সরু মুখ সম্পন্ন চুলায় জ্বলন্ত আগুনের মাঝে পোড়ানো হবে (বুখারী হা/১৩৮৬; মিশকাত হা/৪৬২১)
প্রশ্ন (২৭/১০৭) : ক্বিয়ামতের পূর্বে উল্লেখযোগ্য কী কী নিদর্শন দেখা দিবে?
-আব্দুল জলীল
 কৈমারি, নিলফামারী।
উত্তর : ক্বিয়ামতের পূর্বে প্রকাশিত নিদর্শন সমূহের মধ্যে কিছু ছোট আছে কিছু বড় আছে। ছোট নিদর্শনের সংখ্যা অনেক। কিছু ঘটে গেছে এবং ঘটছে। যেমন- শেষ নবী (ছাঃ)-এর আগমন, বায়তুল মুক্বাদ্দাস বিজয়, ভন্ড নবীদের আবির্ভাব, আমানতের খেয়ানত, ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব, সূদ, বাদ্যযন্ত্র ও মদ্যপানের বিস্তার, বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা, হত্যাকান্ড বেশি হওয়া, শিরকের বিস্তার, প্রতিবেশীর হক নষ্ট করা, অশ্লীলতার ব্যাপকতা, নীচু লোকদের নেতৃত্ব পাওয়া, কাপড় পরিহিতা উলঙ্গ মহিলাদের আবির্ভাব, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, ইলম উঠে যাওয়া, মূর্খতা ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পাওয়া, পুরুষের স্বল্পতা ও নারীদের আধিক্য ইত্যাদি (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৪৩৭; বিস্তারিত দ্রঃ মিশকাত ‘ক্বিয়ামতের আলামত সমূহ’ অনুচ্ছেদ)
আর কিছু বড় নিদর্শন আসবে যা এখনো ঘটেনি। যেমন- ইমাম মাহদীর আগমন, দাজ্জালের ফেৎনা, ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, ইয়াজূজ-মাজূজের ফেৎনা, ধোঁয়া আসা, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, একটি আলৌকিক পশুর আবির্ভাব ঘটা, আগুন মানুষকে হাশরের মাঠে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৬৪)
প্রশ্ন (২৮/১০৮) : সূরা আলে ইমরানের ১৯৯ আয়াতের তাফসীর জানিয়ে বাধিত করবেন।
-ফারযানা খাতুন
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত আয়াতে আল্লাহ বলেন, আহলে কিতাবগণের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং যা তোমাদের প্রতি ও তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে আল্লাহ্র প্রতি অনুগত হয়ে এবং যারা আল্লাহ্র আয়াত সমূহ স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করেনি, তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকটে। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী’ (আলে ইমরান ১৯৯)। একই মর্মের বক্তব্য এসেছে সূরা বাক্বারাহ ১২১, আলে ইমরান ১১৩, মায়েদাহ ৮২-৮৫, আ‘রাফ ১৫৯, ইসরা ১০৭, ক্বাছাছ ৫২-৫৪ আয়াত সমূহে। এসব আয়াতের মর্ম এই যে, ইহুদী হৌক বা নাছারা হৌক যারা শেষ কিতাব ও শেষনবীর উপরে ঈমান এনেছে এবং তাদের নিজেদের কিতাবে বিকৃতি ঘটায়নি ও সেখানে বর্ণিত শেষনবীর আগমন ও তাঁর পরিচয় ও গুণাবলী গোপন করেনি, তারা হ’ল আহলে কিতাবের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। যেমন ইহুদী ধর্মনেতা আব্দুল্লাহ বিন সালাম ও খ্রিষ্টান বাদশাহ নাজাশী প্রমুখ।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন হাবশার বাদশা আছহামা নাজাশীর মুত্যুর কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি ছাহাবীদেরকে নিয়ে গায়েবানা জানাযা পড়লেন। মুনাফিকরা বলল, আমরা একজন অমুসলিম হাবশীর জন্য জানাযা পড়ব? তখন উক্ত আয়াত নাযিল হয় (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/১১০৮৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০৪৪; ইবনু কাছীর, তাফসীর, ঐ)
প্রশ্ন (২৯/১০৯) : কোন সন্তান যদি পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয় আর এ জন্য তারা যদি চোখের পানি ঝরায়, তাহলে সেই সন্তান পূর্বে যত আমল করেছে সব নষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত কথার দলীল জানিয়ে বাধিত করবেন।
-সুমাইয়া খাতুন
সদর হাসপাতাল, পাবনা।
উত্তর : পিতা-মাতার অবাধ্যতা করা তিনটি বড় গুনাহের অন্যতম (বুখারী, মিশকাত হা/৫০)। পিতা-মাতা সন্তানদের জন্য দো‘আ অথবা বদ দো‘আ করলে তা আল্লাহ্র দরবারে কবুল হয় (আবুদাউদ হা/১৫৩৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫৯৬)। কিন্তু তাদের কাঁদালে পূর্বের আমল বিনষ্ট হবে মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। কেননা আল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের কোন পুরুষ ও নারীর কোন নেক আমল বিনষ্ট করি না’ (আলে ইমরান ১৯৫)। উল্লেখ্য, অনেক সময় পিতা-মাতা অন্যায়ভাবে ছেলে-মেয়েদের উপর বদ দো‘আ করে থাকে। এই দো‘আ কোন কাজে লাগবে না। কারণ আল্লাহ কারো প্রতি যুলুম করেন না (মুসলিম, মিশকাত হা/২৩২৬)
প্রশ্ন (৩০/১১০) : যে দিনে যে জন্ম গ্রহণ করবে সেদিনেই সে মৃত্যুবরণ করবে, এ কথা কতটুকু সত্য?
-ফাতিমা
তানোর, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত কথা ভিত্তিহীন। তবে কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতেও পারে। যেমন রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম এবং মৃত্যু একই দিন সোমবারে হয়েছে (মুসলিম হা/২৮০৪; বুখারী হা/৪১৮৪)।  
প্রশ্ন (৩১/১১১) : অনেক আলেম বলে থাকেন, এশার ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করলে সারা রাত ইবাদত করা হয়। অনুরূপ ফজরের ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করলে সারা দিন ইবাদত করা হয়। উক্ত কথা কী সঠিক? দিনে-রাতে সর্বমোট সুন্নাত কত রাকা‘আত? এর ফযীলত কী?
-মিলন কবীর
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : উক্ত কথা সঠিক নয় । বরং রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এশার ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত ক্বিয়াম করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করল সে যেন পুরো রাত ক্বিয়াম করল (মুসলিম হা/১৫২৩)
দিনে রাতে সর্বমোট সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ হ’ল ১২ রাক‘আত। রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দিনে রাতে ১২ রাক‘আত সুন্নাত ছালাত আদায় করবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন। সেই বার রাক‘আত হল: যোহরের পূর্বে ৪ ও পরে ২, মাগরিবের পরে ২, এশার পরে ২, ও ফজরের পূর্বে ২ রাক‘আত (তিরমিযী হা/৪১৫; ঐ, মিশকাত হা/ ১১৫৯)। তবে ইবনে ওমর (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে ১০ রাক‘আত অর্থাৎ যোহরের পূর্বে ২ রাক‘আত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১১৬০)
প্রশ্ন (৩২/১১২) : রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাত কি বিভিন্ন রকমের ছিল? চার ইমাম কেন ছালাতের চার রকম নিয়ম তৈরি করলেন? আর যদি তারা না তৈরি করেন তবে কে করল?
 -রোকসানা, আমেরিকা।
উত্তর : রাসূল (ছাঃ)-এর ছালাতের নিয়ম এক রকমই ছিল। তিনি বলেন, ‘তোমরা  সেভাবেই ছালাত আদায় কর যেভাবে আমাকে ছালাত আদায় করতে দেখছ’ (বুখারী হা/৬৩১; মিশকাত হা/৬৮৩)। চার ইমামও চার রকম ছালাত তৈরী করেননি। তাদের নামে যা কিছু বলা হচ্ছে সবই ভক্তদের বাড়াবাড়ি। কারণ তাঁরা কেউ বলে যাননি যে, রাসূল (ছাঃ)-এর আমলের বিরোধী হলেও আমাদের কথা মেনে চলবে; বরং প্রত্যেক ইমামই বলে গেছেন যে, ছহীহ হাদীছই আমার মাযহাব (শা‘রানী, কিতাবুল মীযান ১/৭৩)। আর ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে গেলে মুসলিম সমাজে অন্ততঃ ছালাতের ব্যাপারে কোন বিভক্তি থাকবে না। অতএব সকল মুসলিমদের উচিত মাযহাবী গোঁড়ামী পরিত্যাগ করে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে ছালাত আদায় করা। [এজন্য ইংরেজী ও বাংলায় প্রকাশিত ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৪র্থ সংস্করণ পাঠ করুন- সম্পাদক]
প্রশ্ন (৩৩/১১৩) : জন্মের পর বাবা আমার আক্বীকা করেননি। আমার স্ত্রীরও আক্বীকা হয়নি। এখন আমরা কি নিজেরা আক্বীকা করব? আক্বীক্বা কতদিন পর্যন্ত করা যায়?  কেমন যরূরী?
-মুখতারুল ইসলাম
নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : আক্বীক্বা করা সুন্নাত। সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই করতে হবে (বুখারী, মিশকাত হা/৪১৪৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের ছেলের পক্ষ থেকে দুইটি পশু এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি পশু সপ্তম দিনে যবেহ কর (আবুদাঊদ হা/২৮৩৬; মিশকাত হা/৪১৫২)। উল্লেখ্য যে, ৭, ১৪, ২১, তারিখে আক্বীক্বা করা যাবে মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা যঈফ (ইরওয়া হা/১১৭০, ৪/৩৯৫-৩৯৬ দ্রঃ)। আরো উল্লেখ্য যে, ছহীহুল জামে‘-এর মধ্যে উক্ত বর্ণনাকে যে ‘ছহীহ’ বলা হয়েছে, যা ছিল আগের তাহক্বীক্ব (ছহীহুল জামে‘ হা/৪১৩২)। অনুরূপ আরো অনেক স্থানে ঘটেছে।
প্রশ্ন (৩৪/১১৪) : জনৈক আলেম বলেন, গোবর দ্বারা রান্নাকৃত খাদ্য খাওয়া হারাম। কারণ গোবর হারাম। এর সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-আব্দুল হালীম
শৈলেরকান্দা, জামালপুর।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ এখানে প্রশ্ন গোবর দিয়ে রান্না নয়। বরং গোবর পোড়ানো আগুন দিয়ে রান্না। এতে কোন দোষ নেই। চাই সে আগুন গোবরের হৌক, কেরোসিনের হৌক বা অন্যকিছুর হৌক। তাছাড়া যে সকল প্রাণীর গোশত হালাল, তাদের মল-মূত্র অপবিত্র নয়   (ফিকহুস সুন্নাহ, ১/২৬ পৃঃ; বুখারী হা/৬৮০২; মিশকাত হা/৩৫৩৯)
প্রশ্ন (৩৫/১১৫) : আদম (আঃ) সৃষ্টির পূর্বে পৃথিবীতে যে জিন জাতি ছিল তাদের প্রতি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কোন নবী-রাসূল এসেছিলেন কি?
-আব্দুস সাত্তার
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : আল্লাহ জিন জাতির মধ্যে কোন নবী-রাসূল প্রেরণ করেননি। জিনেরা যখন অন্যায় কাজে লিপ্ত হত, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একদল সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করতেন। তারা তাদেরকে শায়েস্তা করতেন। প্রয়োজনে দ্বীপে নির্বাসন দিতেন (তাফসীর ইবনে কাছীর; সূরা বাক্বারাহ ৩০; ফাৎহুল ক্বাদীর ১/৬৪)
প্রশ্ন (৩৬/১১৬) : চার ইমামের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ ও স্থান জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মাযহারুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর।
উত্তর : ইমাম আবু হানীফা (৮০-১৫০ হিঃ), জন্মস্থান- কূফা, মৃত্যু- বাগদাদ। ইমাম মালেক (৯৩-১৭৯ হিঃ), জন্মস্থান- মদীনার উত্তরে ‘যুলমারওয়া’ নামক স্থানে, মৃত্যু- মদীনা। ইমাম শাফেঈ (১৫০-২০৪ হিঃ), জন্মস্থান- সিরিয়ার গাযা এলাকায়, মৃত্যু- মিসর। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ), জন্মস্থান ও মৃত্যু- বাগদাদ (মুক্বাদ্দামা আশরাফুল হেদায়াহ মুতারজম শরহ উর্দূ হেদায়াহ (দেওবন্দ : মাকতাবাহ থানভী), পৃঃ ২৫-৫৩)
প্রশ্ন (৩৭/১১৭) : মোবাইল যোগে মেয়ের বাবা দুইজন সাক্ষীর সামনে বলেছেন যে, তোমার সাথে আমার মেয়েকে বিবাহ দিলাম। এ বিবাহ কি বৈধ হবে?
-হাসান, সিঙ্গাপুর।
উত্তর : মেয়ের সম্মতিক্রমে যদি হয় তাহলে উক্ত পদ্ধতিতে বিবাহ হয়ে যাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১২৬)। মক্কার নেতা আবু সুফিয়ানের মেয়ে উম্মে হাবীবাকে বিবাহ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনা থেকে বাদশা নাজাশীকে ওকালতির দায়িত্ব প্রদান করেন। আবু সুফিয়ান অমুসলিম হওয়ার কারণে বাদশা নাজাশী তার পক্ষ থেকে মোহরানা প্রদান করেন ও রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে তাকে বিবাহ দিয়ে দেন (আবু দাঊদ, মিশকাত হা/৩২০৮)
প্রশ্ন (৩৮/১১৮) : ব্যবসায়ীকে কোন পণ্য কিনে দেওয়ার বিনিময়ে নির্ধারিত কোন লাভ নেওয়া যাবে কি?
- সোলায়মান
ডাংগীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
উত্তর : ব্যবসায়ী যদি কাউকে কোন পণ্য ক্রয় করার দায়িত্ব দেন, তাহলে ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলে তাকে মজুরী হিসাবে কিছু দিতে পারেন, লাভের অংশ হিসাবে নয়। সে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নির্ধারিত কোন লাভ নিতে পারবে না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৪/২৭৩ পৃঃ)
প্রশ্ন (৩৯/১১৯) : এক ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি দান করে। কিন্তু ঘটনাক্রমে তা ইবতেদায়ী মাদরাসার নামে ওয়াকফ হয়ে যায়। এখন উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা হচ্ছে। এরূপ ওয়াকফ বিহীন মসজিদে ছালাত শুদ্ধ হবে কি? মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে বর্তমান স্থানটি অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?
-হাতেম আলী
রতনপুর, টাংগাইল।
উত্তর : উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে। কারণ দাতা মসজিদের নিয়তেই জমি দান করেছেন। মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে, ঐ স্থানটি ইবতেদায়ী মাদরাসা হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। অথবা যেকোন ভাল কাজে ব্যবহার করা যাবে। কূফার মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করে সেখানে খেজুরের বাজার বসানো হয়েছিল (ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৩৫১-৩৫২ পৃঃ)। উল্লেখ্য, আপত্তি না থাকলে ওয়াকফ বিহীন মসজিদেও ছালাত শুদ্ধ হবে।
প্রশ্ন (৪০/১২০) : চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় পানাহার করা ও স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি? চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কারণ কী?
-হাসানুযযামান
শৈলেরকান্দা, জামালপুর।

উত্তর : চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় বিভিন্ন কাজে নিষেধ করা সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, চন্দ্র, সূর্য গ্রহণ আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন, এগুলি কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না। যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৮২)। তিনি আরও বলেন, তোমরা আল্লাহ্র যিকির, দো‘আ ও ইস্তিগফারে মশগুল থাক (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪৮৪)। সুতরাং দুনিয়াবী কাজে মগ্ন না থেকে আল্লাহ্র যিকির, ছালাত এবং দো‘আ করতে হবে। এ সময় সুন্নাত হ’ল প্রতি রাক‘আতে ২টি রুকুসহ মোট চার রুকূ দিয়ে দু’রাক‘আত সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের ছালাত আদায় করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৪৮০, ৮২; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ২৫৫)

HTML Comment Box is loading comments...