প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৩২১): আমাদের এলাকার সার, ডিজেল ও মুদির দোকানদাররা বাকী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০% জোরপূর্বক লাভ নিয়ে থাকে। এটা কি বৈধ হবে?
-মুজাহিদুর রহমান
তলুইগাছা, সাতক্ষীরা।
উত্তর: জোরপূর্বক ২০% বেশী নেয়া যুলুম করার শামিল। অতএব তা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে বাকীতে এক দাম আর নগদে এক দাম এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে (আবুদাঊদ হা/৩৪৬১; আওনুল মা‘বূদ হা/৩৪৫৭-এর আলোচনা ৯/২৩৮)। ক্রেতা এক্ষেত্রে তার সামর্থ্য অনুযায়ী যে মূল্যে ক্রয় করতে সক্ষম সে মূল্যে ক্রয় করবে।

প্রশ্ন (২/৩২২): ব্যবসার ব্যস্ততার কারণে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের পরিবর্তে মাঝে মধ্যে দোকানে বা বাসায় একাকী ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি?
-মুহাম্মাদ নকীব ইমাম
কলাবাগান, ঢাকা।
উত্তর: ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকলেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উচিত। কারণ ইসলাম মসজিদে গিয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৭০২ ও ১০৫২)। তাছাড়া অন্য হাদীছে এসেছে, আযান শুনার পরেও গ্রহণযোগ্য ওযর ছাড়া মসজিদে না আসলে ছালাত হবে না (ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩; মিশকাত হা/১০৭৭)। এক্ষণে উক্ত অবস্থায় ছালাত হয়ে যাবে। কিন্তু নেকী কম হবে (ছহীহ আবুদাঊদ হা/৭৯৬, সনদ হাসান)

প্রশ্ন: (৩/৩২৩): তিন রাক‘আত বিতর ব্যতীত তাহাজ্জুদ ছালাত সর্বনিম্ন কত রাক‘আত আদায় করা যায়?
-মুহাম্মাদ আরেফীন ছিদ্দীক
পলাশপোল, সাতক্ষীরা।
উত্তর: বিতর ব্যতীত তাহাজ্জুদ ছালাতের সর্বনিম্ন রাক‘আত সংখ্যা হচ্ছে দুই (মুসলিম হা/১৩৯, ‘মুসাফিরের ছালাত’ অধ্যায়)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেছেন, রাতের (নফল) ছালাত দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত’ (বুখারী হা/৪৭২; মুসলিম হা/৭৪৯; মিশকাত হা/১২৫৪)। অতএব সর্বনিম্ন দু’রাক‘আতও আদায় করা যাবে (বিস্তরিত দ্র: ছালাতুর রাসূল (ছা:), পৃ: ১০১)

প্রশ্ন (৪/৩২৪): বিভিন্ন তরীকা ও মাযহাবে বিভক্ত মুসলিম মিল্লাতের জন্য ‘ওয়া‘তাছিমু বিহাবলিল্লা-হি জামী‘আওঁ ওয়ালা তাফাররাকূ’ এ আয়াতের নির্দেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হবে?
-যুবায়ের আহমাদ
ধানমন্ডি, ঢাকা।
উত্তর: রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেছেন, ... একটি মাত্র দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটির পরিচয় হিসাবে তিনি বলেন, আমি এবং আমার ছাহাবীগণ যার উপর আছি’ (ছহীহ তিরমিযী হা/২৬৪১; মিশকাত হা/১৭১)। অতএব রাসূল ও ছাহাবীদের গুণাবলী সম্পন্ন জান্নাতী দলে অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারলে এবং পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহকে সর্বক্ষেত্রে শর্তহীনভাবে মেনে চললে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। উক্ত আয়াতে ঐক্যের জন্য হাবলুল্লাহকে অাঁকড়ে ধরার শর্ত করা হয়েছে, আব্দুল্লাহকে নয়। অতএব যারাই হাবলুল্লাহকে অাঁকড়ে ধরবেন তাদের সাথেই ঐক্য করতে হবে, তাই তিনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন। অন্তত: আক্বীদাগত ঐক্য গড়ায় কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (৫/৩২৫): মাসিক আত-তাহরীক অক্টোবর’০৬ সংখ্যায় বলা হয়েছে যুল কিফল বনী ইসরাঈলের একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন। ‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫জন নবীর কাহিনী’তে বলা হচ্ছে তিনি একজন নবী ছিলেন। কোনটি সঠিক? দলীল ভিত্তিক জবাব দানে বাধিত করবেন।
-মুহাম্মাদ আবুল কালাম আযাদ
দর্শনহাট, মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর: যুল কিফল একজন নবী ও একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাকে নবীদের সাথেই উল্লে­খ করা হয়েছে (আম্বিয়া ৮৫-৮৬; ছোয়াদ ৪৮)। হাফেয ইবনু কাছীর বলেন, যুল কিফলের নবী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট (তাফসীরে ইবনে কাছীর, আম্বিয়া ৮৫)
যুল কিফল সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে দু’স্থানে বর্ণিত হয়েছে অন্যান্য নবীগণের সাথে যুক্ত করে। যেমন সূরা আম্বিয়া ৮৫-৮৬ আয়াতে বলা হয়েছে, وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ، وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ- ‘আর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল কিফল, সকলেই ছিল ধৈর্যশীলগণের অন্তর্ভুক্ত’। ‘আর আমরা তাদেরকে আমাদের অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই তারা ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত’ (আম্বিয়া ৮৫-৮৬)। এ আয়াত দ্বয়ের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর বলেন, فالظاهر من السياق أنه ما قرن مع الأنبياء إلا وهو نبي- ‘পূর্বাপর সম্পর্কে এটা প্রকাশ্য যে, নবীগণের তালিকায় নবী ব্যতীত অন্যদের নাম যুক্ত হয় না’। তবে অন্যেরা কেউ বলেছেন, তিনি একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন, কেউ বলেছেন, তিনি একজন ন্যায়পরায়ন শাসক ছিলেন। ইবনু জারীর এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন’। কুরতুবী ও শওকানী এখানে যুল কিফল সম্পর্কিত তিরমিযী বর্ণিত দু’টি যঈফ হাদীছ উল্লে­খ করে ক্ষান্ত হয়েছেন। আহমাদ, তিরমিযী, হাকেম-এর বর্ণনায় শুধু ‘কিফল’ এসেছে। আলবানী বলেন, ‘ইনি বনু ইস্রাঈলের একজন ব্যক্তি, কুরআনে বর্ণিত যুল কিফল নন’(সিলসিলা যঈফাহ হা/৪০৮৩)। কুরতুবী আবু মূসা আশ‘আরী (রা:) প্রমুখাৎ রাসূলুল্লাহ (ছা:) থেকে একটি হাদীছ এনেছেন যে, إن ذا الكفل لم يكن نبيا ولكنه عبدا صالحًا ‘নিশ্চয়ই যুল কিফল নবী ছিলেন না। বরং তিনি একজন সৎকর্মশীল বান্দা ছিলেন’। অথচ হাদীছটি জাল, যার অবস্থা এই যে, لا أصل له في المرفوع بل موقوف ضعيف أخرجه الطبري وهو منقطع-  ‘এর মরফূ‘ হওয়ার অর্থাৎ রাসূল (ছা:) থেকে বর্ণিত হওয়ার কোন ভিত্তি নেই। বরং এটি মওকূফ, অর্থাৎ আবু মূসার নিজস্ব উক্তি। অথচ যার সূত্র যঈফ এবং যা ইবনু জারীর স্বীয় তাফসীরে মুনক্বাতি‘ অর্থাৎ ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন (তাহক্বীক্ব কুরতুবী, আম্বিয়া ৮৫)
(২) আল্ল­াহ বলেন, وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِّنْ الْأَخْيَارِ ‘আর তুমি বর্ণনা কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘ ও যুল কিফল সম্পর্কে। আর তারা সকলেই ছিল উত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত’ (ছোয়াদ ৪৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কুরতুবী বলেন, أي ممن اخةير للنبوة অর্থাৎ তারা ছিলেন সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে নবুঅতের জন্য বাছাই করা হয়েছিল’। শাওকানী স্বীয় তাফসীর ফাৎহুল ক্বাদীরে বলেন, أنهم من جملة من صبر من الأنبياء- ‘তারা হলেন সেই সকল নবীগণের অন্তর্ভুক্ত যারা বহু কষ্ট সহ্য করেছেন’। অথচ একই তাফসীর গ্রন্থের সারসংক্ষেপ ‘যুবদাতুত তাফসীর’ নামে যা প্রকাশিত হয়েছে রিয়াদ, দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে, সেখানে বলা হয়েছে, الصحيح أنه رجل من بني إسرائيل، كان لا يتورع عن شيئ من المعاصي فتاب فغفر الله له، ليس نبي، وقال جماعة هو نبي- ‘সঠিক কথা এই যে, তিনি বনু ইস্রাঈলের একজন ব্যক্তি ছিলেন। যিনি কোন পাপের কাজে দ্বিধা করতেন না। পরে তিনি তওবা করেন। অত:পর আল্ল­াহ তাকে মাফ করেন। তিনি নবী নন। তবে একদল বলেছেন যে, তিনি নবী’। প্রশ্ন হ’ল, এমন একজন লোকের কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে নবীগণের তালিকায় বর্ণনা করবেন কেন?
আত-তাহরীক অক্টোবর ২০০৬, ১০/৩ সংখ্যার ২১/২১ প্রশ্নোত্তরে যুবদাতুত তাফসীরের বক্তব্যটুকু অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে মাত্র। বাড়তি তাহকীক করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। যেটা ভুল হয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় যে, আধুনিক মুফাসসির আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরী স্বীয় ‘আয়সারুত তাফাসীরে’ সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরের টীকায় লিখেছেন, وأرجح الأقوال ما رواه أبو موسى رضي الله عنه عن النبي صـ أنه قال: ‘সব কথার সেরা কথা হ’ল যা বর্ণনা করেছেন আবূ মূসা (রা:) রাসূলুল্ল­াহ (ছা:) হতে’- বলেই তিনি যঈফ হাদীছটির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন, যা মূলত: কোন হাদীছই নয়, যে সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
মোটকথা কুরআন যখন ইসমাঈল, ইদরীস, আল-ইয়াসা‘ প্রমুখ নবীগণের সাথে যুল কিফলের নাম একসাথে বর্ণনা করেছে, তখন তিনি নবী ছিলেন, এ বিশ্বাসই রাখতে হবে। এর বিপরীতে কোন বিশুদ্ধ দলীল নেই। এগুলি ইহুদীদের মিথ্যা রটনা হওয়াও বিচিত্র নয়।
উল্লেখ্য যে, ইবনু কাছীর সূরা নেসা ১৬৪ আয়াতের তাফসীরে ‘যুল কিফল’ সহ ২৫জন নবীর তালিকা দিয়েছেন (ঐ, ১/৫৯৯ পৃ:)। কুরতুবী সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, والجمهور على أنه ليس بنبي ‘জমহূর বিদ্বানগণের মতে তিনি নবী ছিলেন না’। কিন্তু সূরা ছোয়াদ ৪৮ আয়াতের তাফসীরে তিনি তাকে নবীগণের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। আসলে ‘জমহূর’ পরিভাষাটি অনেক সময় ভেক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কুরতুবী, ইবনু কাছীর, শাওকানী প্রমুখ মুফাসসিরগণকে বাদ দিয়ে আর কাদেরকে ‘জমহূর’ বলা হবে? আল্ল­াহ সর্বাধিক অবগত।

প্রশ্ন (৬/৩২৬): আমি ইসলামের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করি। পর্দার খেলাফ হবে এই আশংকায় আমি গর্ভাবস্থায় দো‘আ করতাম যে, আমার প্রসব যেন অস্ত্রোপচারহীন হয়। কিন্তু বাধ্য হয়ে অপারেশন করতে হয়েছে এবং পরবর্তীতেও বাচ্চা নিলে অপারেশন করতে হবে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি আর বাচ্চা নেব না। এরূপ সিদ্ধান্ত কি সঠিক হয়েছে?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
উত্তর: আল্লাহ্ কারো দো‘আ প্রত্যাখ্যান করেন না। বাহ্যিকভাবে কবুল না হ’লেও হয়ত সে দো‘আর মাধ্যমে আল্লাহ্ দো‘আকারীকে অন্য বিপদ থেকে রক্ষা করেন (ছহীহ তিরমিযী হা/৩৩৮১; মিশকাত হা/২২৩৬, সনদ হাসান)। তাই বাচ্চা না নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সঠিক নয়। এমনও হ’তে পারে যে, পরবর্তীতে অপারেশন নাও করতে হ’তে পারে। তাছাড়া অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে সন্তান হ’তে যে কষ্ট হয় অপারেশন করালে তার চেয়ে কম কষ্ট হয়। হ’তে পারে আপনার ক্ষেত্রেও এরূপ ঘটেছে। আল্লাহ্ আপনাকে বেশী কষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। অতএব উক্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে এবং কোন মহিলা সার্জনকে দিয়ে অপারেশন করানোর চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন (৭/৩২৭): আমি আক্বীদাগত ভাবে আহলেহাদীছ। কিন্তু হানাফী এলাকায় আমার বসবাস হওয়ায় বাধ্য হয়ে হানাফী ইমামের পিছনে জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে হয়। ঐ ইমাম রাফ‘উল ইয়াদায়েন, জোরে আমীন বলা সহ অনেক সুন্নাতই আমল করেন না। অথচ আমি সেগুলো পালন করি। এমতাবস্থায় ইমামের অনুসরণ করা হবে কি?
-ডা. মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
বিপ্রবর্থা, গাযীপুর।
উত্তর: বিশুদ্ধ সুন্নাতের উপর আমল করেই ইমামের অনুসরণ করতে হবে। এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না। ছহীহ হাদীছে থাকা সত্ত্বেও যে সমস্ত আমল ইমাম ছেড়ে দিবেন মুক্তাদী হিসাবে সেগুলো আমল করা সম্ভব হ’লে তা পালন করতে হবে (বুখারী হা/৩৭৮, ৬৮৯; মুসলিম হা/৪১১, ৪১৪)। যেমন তিনি জোরে আমীন না বললে,  রাফউল ইয়াদায়েন না করলে, বুকে হাত না বাঁধলে আপনাকে তা করতে হবে। এগুলো বিশুদ্ধ সুন্নাত। কারণ রাসূল (ছা:) যেভাবে ছালাত আদায় করেছেন সেভাবেই আমাদের ছালাত আদায় করতে বলা হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬৮৩)। উল্লেখ্য, ছালাতে ইমামের ত্রুটি হ’লে তা ইমামের উপর বর্তাবে মুক্তাদীর উপর নয় (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৩)। আর ইমামের অনুসরণ হবে ক্বিয়াম-কু‘ঊদ, রুকূ-সুজূদ এবং ছালাত শুরু ও শেষ করার ব্যাপারে, অন্যান্য সুন্নাত আমল করার ব্যাপারে নয়।

প্রশ্ন (৮/৩২৮): মসজিদের মধ্যে জানাযার ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-আবু ছালেহ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
উত্তর: বাইরে পড়াই সুন্নাত। তবে বিশেষ অবস্থায় মসজিদের মধ্যে জানাযার ছালাত আদায় করা যাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৫৬)

প্রশ্ন: (৯/৩২৯): উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বর ও কনের মধ্যে বিবাহের কাবিননামা রেজিষ্ট্রি হয়েছে। কিন্তু সমাজের প্রথা অনুযায়ী তিন/চার মাস পরে আনুষ্ঠানিকভাবে খুৎবা পড়িয়ে বিবাহ সম্পাদন করে বৌ উঠানো হবে। এই নিয়ম কি শরী‘আত সম্মত?
-আব্দুল্লাহ
পোড়াদহ, কুষ্টিয়া।
উত্তর: উক্ত নিয়ম শরী‘আত সম্মত নয়। কেননা উপরোক্ত বর্ণনা মতে বিবাহের সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে। কেবল খুৎবা বাকী রয়েছে, যা শর্ত নয়, বরং সুন্নাত। বিবাহের শর্ত হ’ল চারটি। অলি, দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী, মোহরানা ও স্থায়ী উদ্দেশ্যে বিবাহ করা। বিবাহের দু’টি রুকন হ’ল ঈজাব ও কবুল। অর্থাৎ স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের স্বেচ্ছাকৃত সম্মতি এবং উভয়ে মুহরিম না হওয়া। অর্থাৎ পরষ্পরের মধ্যে বিয়ে হারাম না হওয়া। এক্ষণে যেহেতু বিবাহের সকল শর্ত ও রুকন পূর্ণ হয়েছে, সেহেতু বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। তারা এখন পরষ্পরে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করতে পারে। অতএব ইচ্ছাকৃতভাবে খুৎবা ও বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা বিলম্বিত করা সামাজিক কুপ্রথা মাত্র। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন: (১০/৩৩০):  কাউকে জিজ্ঞেস করা হ’ল যে, আপনি কেমন আছেন? সে উত্তরে বলল, আল্লাহ্র রহমতে ও আপনাদের দো‘আয় ভাল আছি। এরূপ বলা যাবে কি?
-ছাদেক
সোনাপুর, জয়পুরহাট।
উত্তর: এরূপ বলা উচিত নয়। বরং বলতে হবে ‘আল্লাহ্র রহমতে অত:পর আপনাদের দো‘আয় ভাল আছি’। এখানে ‘অত:পর’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ (ছহীহ ইবনে মাজাহ হা/২১১৭; ছহীহ বুখারী হা/৬৬৫৩, ‘শপথ ও মানত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭; মিশকাত হা/১৮৭৮)। তবে শুধু ‘আল-হামদুলিল্লাহ্’ ভাল আছি’ বলা উচিত।

প্রশ্ন (১১/৩৩১): জনৈক আলেম বলেছেন ওশর, ফিৎরা ও কুরবানীর টাকা মাদরাসায় দেওয়া যাবে না। উক্ত দাবীর সত্যতা জানতে চাই।
-মুতীউর রহমান
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
উত্তর: উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। বরং বেসরকারী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব সম্পদের বেশী হকদার। ফী সাবীলিল্লাহ খাত থেকে এসব স্থানে এ সম্পদ দেওয়া যাবে (তওবাহ ৬০)

প্রশ্ন (১২/৩৩২): পবিত্র কুরআন ৩০ পারা না ৯০ পারা?
- আহমাদ
লাকসাম, কুমিল্লা।
উত্তর: পবিত্র কুরআন ৩০ পারা। যা আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ছা:)-এর উপর জিবরীল (আ:)-এর মাধ্যমে নাযিল করেছেন। এর শুরু সূরা ফাতিহা দিয়ে এবং শেষ সূরা নাস দিয়ে। এ কুরআনকেই আল্লাহ হেফাযত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন (হিজর ৯)। কোন কোন অমুসলিম ও ভ্রান্ত ফের্কার লোকেরা কুরআনকে কম-বেশী বলে মন্তব্য করে থাকে। এদের চক্রান্ত থেকে সাবধান থাকা উচিত।

প্রশ্ন (১৩/৩৩৩): বর্তমানে শরী‘আত বিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে। এ সমস্ত স্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি?
-ফয়েয
ধামতী, মীরবাড়ী, কুমিল্লা।
উত্তর: এসব অনুষ্ঠানের পূর্বে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে না। কারণ যেখানে কুরআনের মুল্যায়ন থাকে না সেখানে কুরআন তেলাওয়াত করা শরী‘আতে নিষিদ্ধ (বুখারী, মিশকাত হা/২৫২)

প্রশ্ন (১৪/৩৩৪): ছালাত কখন ক্বছর করতে হয়? ক্বছর করা ওয়াজিব না সুন্নাত? ছালাতে কছর না করলে গোনাহ হবে কি? রাসূল (ছা:) ও ছাহাবায়ে কেরাম কি কছর করতেন?
-জাফর
ইংরেজী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর: মুসাফির ব্যক্তি ছালাত কছর করবে (নিসা ১০১; ছহীহ মুসলিম হা/৬৯১; মিশকাত হা/১৩৩৭)। কিন্তু মুসাফির হয়ে মুক্বীম ইমামের পেছনে ছালাত আদায় করলে পূর্ণই পড়তে হবে (আহমাদ, ইরওয়াউল গালীল হা/৫৭১)। কছর করা ওয়াজিব নয় এবং কছর না করলে গুনাহও হবে না। তবে কছর করা উত্তম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৩৩৫)

প্রশ্ন: (১৫/৩৩৫): জনৈক বক্তা বলেছেন, সূরা বাক্বারায় এমন একটি আয়াত আছে যা পাঠ করলে কেউ জাহান্নামে গেলেও তাকে আগুনের তাপ লাগবে না, একটি পশমও পুড়বে না। প্রশ্ন হ’ল সেটা কত নম্বর আয়াত এবং কতবার পড়তে হবে?
-ইকরামুল ইসলাম
শার্শা, যশোর।
উত্তর: এটি ভিত্তিহীন কথা মাত্র। জাহান্নামে গিয়ে যদি আগুনের তাপ না লাগে, পশমও যদি না পুড়ে তাহ’লে আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে দিবেন কেন? এমন কথা বলা থেকে সাবধান হওয়া উচিত।

প্রশ্ন (১৬/৩৩৬): জনৈক ব্যক্তি পবিত্র কুরআন নিয়ে দৃঢ়ভাবে শপথ করে যে, আল্লাহর কসম! আমি বাকী জীবনে এই পাপ আর করব না। কিন্তু শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পুনরায় ঐ পাপে লিপ্ত হ’লে তার হুকুম কী?
-মুখলেছুর রহমান
সিরাজগঞ্জ।
উত্তর: কুরআন মজীদে হাত দিয়ে শপথ করা শারঈ তরীকা নয় এবং পাপ মুক্ত হওয়ারও পদ্ধতি নয়। বরং ক্ষমা পেতে হ’লে আল্লাহ্র নিকট তওবা করতে হবে। পাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হ’তে হবে, পুনরায় না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। যদি পুনরায় একই পাপে জড়িয়ে পড়ে তাহ’লে আবার তওবা করতে হবে।
তবে শপথ ভঙ্গ করার কারণে কাফফারা দিতে হবে। এর কাফফারা হচ্ছে- (১) দশজন মিসকীনকে খাওয়ানো (২) অথবা তাদের পোষাক প্রদান করা (৩) অথবা দাস-দাসী মুক্ত করা (বর্তমানে এটি নেই)। এগুলো করার সামর্থ্য না থাকলে তিনদিন ছিয়াম পালন করবে (মায়েদাহ ৫/৮৯)

প্রশ্ন (১৭/২৯৭): মসজিদের ভিতরের অংশ উঁচু এবং বারান্দা অংশ নীচু। এতে ছালাতের কোন সমস্যা হবে কি?
-মুতীউর রহমান
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
উত্তর: সমস্যা হবে না। তবে ইমাম একাকী উপরে দাঁড়াতে পারবেন না। একদা আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা:) একাকী উপরে দাঁড়িয়ে ইমামতি করছিলেন। হুযায়ফা (রা:) তাঁকে পিছন থেকে ধরে টেনে সমতল যমীনে নামিয়ে দেন এবং বলেন, আপনি শুনেননি, রাসূল (ছা:) বলেছেন, ইমাম যেন মুক্তাদী হ’তে উঁচু স্থানে না দাঁড়ায় (আবুদাঊদ হা/৫৯৭)

প্রশ্ন (১৮/৩৩৮): ‘মাসিক আদর্শ নারী’ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সংখ্যার সুয়াল-জওয়াব পর্বে জনৈকা মহিলার ৪২৮৯ নং প্রশ্ন ছিল, ‘তার স্বামী হাসতে হাসতে বলেছে- এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক, বাইন তালাক। তাদের কি সত্যি সত্যি তালাক হয়ে গিয়েছে? এর উত্তরে লেখা হয়েছে, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন তারা স্বামী-স্ত্রী নন এবং তাদের লেনদেন পরিশোধ করে পৃথক হয়ে যাওয়া এবং অন্যত্র বিবাহের কথা বলা হয়েছে। এটা কি ঠিক? তাছাড়া তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে দ্বিতীয়বার বিবাহ করা যায় কি? কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে সঠিক উত্তর দানে বাধিত করবেন।
-নাসীমা খাতুন
ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম।
উত্তর: এ অবস্থায় এক তালাক হয়েছে। কারণ এক বৈঠকের শত তালাক দিলেও তা এক তালাক বলেই গণ্য হয় (আবুদাঊদ হা/২১৯৬)। আর তিনটি কাজে হাসি-ঠাট্টা চলে না। তার একটি হচ্ছে তালাক (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩২৮৪)। তিন মাসে তিন তালাক বায়েন প্রাপ্তা মহিলা অন্যত্র বিবাহ করে তালাকপ্রাপ্তা হ’লে পুনরায় পূর্ব স্বামীর সাথে উভয়ের সম্মতিক্রমে বিবাহ করতে পারে (বাক্বারাহ ২/২৩২)। এক তালাকের পরে রাজ‘আতের মাধ্যমে এবং দুই তালাকের পর ইদ্দত পার হয়ে গেলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে পারবে (বিস্তারিত দ্র: ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)

প্রশ্ন (১৯/৩৩৯): ভারতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিসাবে বসবাস করছে। সে দেশের অমুসলিম সরকার তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য ঋণ প্রদান করছে। যথাসময়ে সে ঋণ পরিশোধ করতে পারলে সরকার একটা মোটা অংশ ছাড় দিবে। কোন মুসলিম সেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে পারবে কি?
-আতাউর রহমান
চকসাপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
উত্তর: প্রথমত জানতে হবে যে সেটা সূদমুক্ত ঋণ কি-না। সূদমুক্ত হ’লে এ ঋণ নেয়া যাবে। এই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারলে সরকার কর্তৃক যে বিশেষ ছাড় দেয়া হবে তাও গ্রহণ করা যাবে। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে তা হবে পুরস্কার স্বরূপ। যার সাথে সূদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

প্রশ্ন (২০/৩৪০): সুন্নাত ছালাতে রুকূর সময় যদি কোন ব্যক্তি সিজদার দো‘আ পড়ে এবং রুকূ শেষে দাঁড়িয়ে যায় তাহ’লে তার জন্য করণীয় কী?
-মুহাম্মাদ মফীযুর রহমান
গাড়াবাড়িয়া, গাংনী, মেহেরপুর।
উত্তর: এধরনের ত্রুটি হ’লে কিছু করণীয় নেই। কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ (ছা:) একই দো‘আ রুকূ‘ এবং সিজদাতে পড়েছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৮১৭)। তবে এ ধরনের ভুল যেন না হয় সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং যে দো‘আ যে স্থানে পড়ার নির্দেশ রয়েছে তা সেখানেই পড়া উচিত।

প্রশ্ন (২১/৩৪১): আমি একজন উচ্চ শিক্ষিতা মেয়ে। আমি পিতা-মাতাকে না জানিয়ে বিয়ে করেছি। বিয়েতে কোন ওয়ালী ছিল না। ১ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে সাক্ষী হিসাবে ছিল। দেনমোহর ১ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমার পরিবার আমার বিয়ে মেনে নেয়নি। ‘তারা আমাকে ডিভোর্স লেটারে সাইন করিয়েছে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আমার স্বামী ধার্মিক এবং গোপনে বিয়ের জন্য আমরা খুবই লজ্জিত ও আল্লাহ্র কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। ইতিমধ্যে ২টা ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়েছে। জুন মাসে শেষ পত্রটি যাবে। এক্ষণে স্বামীর কাছে প্রত্যাবর্তনের জন্য আমার করণীয় কি?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
জনৈকা মহিলা, শৈলদহ, কুষ্টিয়া।
উত্তর: উভয় পক্ষের ওয়ালী এবং দু’জন মুমিন ন্যায়নিষ্ঠ বয়স্ক পুরুষ সাক্ষী না থাকায় বিবাহ সিদ্ধ হয়নি। এজন্য আপনারা উভয়ে ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত। অপরপক্ষে আপনার অভিভাবক আপনার মতের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়ায় তারাও অন্যায় করেছেন। অতএব বিয়েই যেখানে হয়নি, সেখানে ডিভোর্স লেটারের কোন মূল্য নেই। এক্ষণে খালেছ অন্তরে তওবা ব্যতীত আপনাদের গোনাহ মাফ হবে না। অপর পক্ষে আপনার অভিভাবকের কর্তব্য হবে নিজেদের যিদ ও অহংকার ত্যাগ করে মেয়ের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তার বিবাহের ব্যবস্থা করা এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ্র নিকটে প্রাণ খুলে দো‘আ করা। কেননা তিনিই মানুষের ভাল-মন্দের একমাত্র মালিক।

প্রশ্ন (২২/৩৪২): দাড়ি কাটা, ছেটে সাইজ করা এবং টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার বিধান কী?
-ইসলামুল হক
কামারকুড়ি, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর: দাড়ি কেটে ফেলা শারঈ নির্দেশকে অমান্য করার শামিল। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি পূর্ণভাবে ছেড়ে দাও ও গোঁফ পূর্ণভাবে ছেটে ফেলো’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪২১ ‘পোষাক’ অধ্যায় ‘চুল অাঁচড়ানো’ অনুচ্ছেদ)। দাড়িকে কোনভাবেই কেটে সাইজ করা যাবে না (মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৬/৩৭৪ পৃ:; ৩/৩৬৮ ও ৩৬৯ পৃ:)। তিরমিযীতে এ মর্মে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা জাল (যঈফ তিরমিযী হা/২৭৬২)
টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরলে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না, তার সাথে কথা বলবেন না এবং তাকে (গোনাহ থেকে) পবিত্রও করবেন না (মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৯৫, ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়)। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন টাখনুর নীচে কাপড় যতটুকু যাবে, ততটুকু জাহান্নামে পুড়বে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৩১৪)

প্রশ্ন (২৩/৩৪৩): আমি নিজে যখন জমি চাষাবাদ করতাম তখন নিয়মানুযায়ী ওশর দিতাম। বর্তমানে পত্তন দেই এবং প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে ৬০০/৭০০ টাকা দান করি। এটা কি সঠিক হচ্ছে?
-মমতাযুর রহমান
চোপীনগর, শাহজাহানপুর, বগুড়া
উত্তর: উৎপাদিত ফসল নেছাব পরিমাণ হ’লে যিনি জমি পত্তন বা লীজ নিয়েছেন তাকেই ওশর দিতে হবে। কেননা লীজ গ্রহীতাই উৎপাদিত শস্যের মালিক। আর শস্যের মালিকের উপরেই ওশর ফরয (আন‘আম ৬/১৪১)। অপর দিকে জমির মালিক যেহেতু টাকা নিয়েছে, তাই তার টাকা যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বাহান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমান হয় এবং সেই টাকার উপর এক বছর অতিবাহিত হয় তাহ’লে তাকে শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিতে হবে (আবুদাঊদ হা/১৫৭৩, ১৫৭৬; বুলূগুল মারাম, তাহক্বীক্ব: মুবারকপুরী, হা/৫৯২-৯৩ ‘যাকাত’ অধ্যায়-এর ভাষ্য দ্র.)

প্রশ্ন (২৪/৩৪৪): পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের কবরস্থানে যাওয়া সম্ভব না হ’লে একা একা যেকোন স্থান হ’তে হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি?
-খাদীজা
সিরাজগঞ্জ।
উত্তর: মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্যে কবরস্থানে যাওয়া যরূরী নয়। বরং যেকোন স্থান হ’তে একাকী হাত তুলে (বা না তুলে) দো‘আ করা যায় (আহমাদ হা/২৪৯৭০ হাদীছ ছহীহ)

প্রশ্ন (২৫/৩৪৫): আমরা জানি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু মাসিক আত-তাহরীক-এ প্রকাশিত ‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর কাহিনী’ প্রবন্ধে বিভিন্ন স্থানে  আল্লাহ্র শানে ‘আমরা’ ব্যবহার করা হয়েছে। এর কারণ কী?
-ডা. আলম মিয়া
রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ
মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম শাকিল
ডাঁশমারী, মতিহার, রাজশাহী।
উত্তর: মনগড়াভাবে কুরআনের কোন শব্দ বা আয়াতের অর্থ করা যাবে না। ইমাম রাযীন বলেছেন, যে ব্যক্তি তার নিজ মতামত দ্বারা কুরআনের ব্যাপারে কিছু বলে ভুল করল সে কুফরী করল। একদা আবুবকর (রা:)-কে একটি অক্ষরের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, যদি কিতাবুল্লাহ্র একটি অক্ষরের ব্যাপারে এরূপ কথা বলি যেরূপ আল্লাহ্র উদ্দেশ্য ছিল না, তাহ’লে কোন্ আসমান আমাকে ছায়া দিবে, কোন্ যমীন আমাকে বিশ্রামের স্থান দিবে? আমি কোথায় যাবো আর কী করবো? (বিস্তারিত দ্র. তাফসীর কুরতুবী, মুক্বাদ্দামা)। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ স্বীয় সম্মান-মর্যাদা বুঝানোর জন্য এরূপ বহু বচনের শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেকারণ ‘পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর কাহিনী’ প্রবন্ধে সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতে যেখানে বহুবচনের শব্দ এসেছে সেখানে বহুবচনেরই অর্থ করা হয়েছে। মূলত: আল্লাহ্র বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বুঝানোর জন্যই বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। যেটা ভাষার অলংকারের মধ্যেও পড়ে।

প্রশ্ন (২৬/৩৪৬): রাসূলুল্লাহ (ছা:) মি‘রাজ রজনীতে আসমানে গিয়ে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। তাহ’লে কি জাহান্নাম আসমানে? অনেকে বলেন, সাত সমুদ্র সাতটি জাহান্নাম। অনেকে বলেন, সপ্তম যমীনের নীচে জাহান্নাম অবস্থিত। কোনটি সঠিক?
-মুহাম্মাদ আব্দুল করীম
নাখোপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর: জান্নাত ও জাহান্নাম সপ্তম আসমানের উপরে সৃষ্ট অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা আদম ও হাওয়াকে জান্নাত থেকে বের করে দুনিয়াতে নামিয়ে দেন’ (বাক্বারাহ ২/৩৬)। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জান্নাত আসমানের উপরে অবস্থিত। এছাড়া একাধিক ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ছা:) মে‘রাজের সময়ে স্বচক্ষে জান্নাত ও জাহান্নামকে সপ্তম আসমানের উপরে সৃষ্ট অবস্থায় দেখেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৬২-৬৬ ‘মে’রাজ’ অধ্যায়)

প্রশ্ন (২৭/৩৪৭): হিংসা মানুষের সৎকর্মকে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাঠ খেয়ে ফেলে। এ হাদীছের সারমর্ম কী?
-আহমাদ
নবাব জায়গীর, নবাবগঞ্জ।
উত্তর: এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আবুদাঊদ হা/৪৯০৩)। তবে হিংসা করা একটি জঘন্যতম অপরাধ। এই অভ্যাস শরী‘আতের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০২৮)। এ বিষয়ে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।

প্রশ্ন (২৮/৩৪৮): রাতের তিন ভাগের এক ভাগ বাকী থাকে তখন আল্লাহ প্রথম আকাশে নেমে আসেন, অথচ পৃথিবীতে রাত-দিন এক সাথে হয় না। অতএব এর ব্যাখ্যা জানতে চাই।
-আব্দুল জাববার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর: ঈমানদারের জন্য যরূরী হ’ল, আল্লাহ অবতরণ করেন একথা বিশ্বাস করা এবং কিভাবে করেন সেকথা বলা থেকে বিরত থাকা। কারণ আল্লাহ্র কাজ তাঁর মতই হয় মানুষের মত নয়। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে রাত হয় এটা আল্লাহ্র ইচ্ছাতেই হয় এবং তাঁর অবতরণ তাঁর ইচ্ছাতেই হয়। পৃথিবীর যে অংশে যখন রাত হয়, সে অংশে তাঁর মর্যাদা অনুযায়ী তাঁর অবতরণ ঘটে। যা অনুভব করার ক্ষমতা মানুষ রাখে না (ছাবূনী, আক্বীদাতুস সালাফ, পৃ: ২৯; বিস্তারিত দ্র: আহলেহাদীছ আন্দোলন (থিসিস), পৃ: ১১৬ ও ১১৭)

প্রশ্ন (২৯/৩৪৯): পিতা মারা গেছেন। তার উপর হজ্জ ফরয ছিল না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি?
-মমতাযুর রহমান
শাজাহানপুর, বগুড়া।
উত্তর: মৃত পিতা-মাতার পক্ষ থেকে ছেলে হজ্জ করতে পারে। ইবনু আববাস (রা:) বলেন, একজন লোক নবী করীম (ছা:)-এর কাছে এসে বলল, আমার পিতার পক্ষ থেকে আমি হজ্জ করতে পারি কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ কর’ (ইবনে মাজাহ হা/২৯০৪; তিরমিযী হা/৯২৮ ও ২৯; নাসাঈ হা/২৬৩৩)। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, সন্তান হ’ল পিতা-মাতার অর্জিত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত’ (ত্বাবারানী আওসাত্ব, ছহীহুল জামে‘ হা/৭১৬২)

প্রশ্ন (৩০/৩৫০): বিদ‘আতী মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারী অথবা সদস্য হওয়া যাবে কি?
- লাবীব
নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
উত্তর: যেসব মসজিদে বিদ‘আতী আমল চালু আছে সেসব মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে সদস্য পদ গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ এতে বিদ‘আতের সহযোগিতা করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘন কাজে সহযোগিতা কর না’ (মায়েদা ২)

প্রশ্ন (৩১/৩৫১): বরিশাল অঞ্চলে মানুষ মারা গেলে, জুম‘আর দিন মসজিদের মুছল্লীদেরকে জিলাপি দেয়া হয় এবং ইমামকে মৃতের জন্য দো‘আ করতে বলা হয়। তিনি ছালাত শেষে সকলকে নিয়ে দো‘আ করেন। এটা কি শরী‘আত সম্মত?
-ফারূক
সোহাগদল, পিরোজপুর।
উত্তর: মৃত ব্যক্তির নামে জুম‘আর দিন জিলাপি বিতরণ করা এবং সবাই মিলে তার জন্য উক্ত পদ্ধতিতে মুনাজাত করা যাবে না। কবরের পাশে গিয়ে অথবা যেকোন স্থান হ’তে মৃত ব্যক্তির জন্য একাকী হাত তুলে বা না তুলে দো‘আ করা যায় (মুসলিম হা/২২৫৫, ১/৩১৩ পৃ:; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৩৩)

প্রশ্ন (৩২/৩৫২): প্রায় তিন বছর যাবৎ আমার স্ত্রীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। সে আমার কাছ থেকে মোহরানা নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চায়। এখন আমার জন্য করণীয় কী?
-কাবীরুল ইসলাম
হায়াতপুর, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
উত্তর: সংসারে ফিরে আসতে না চাইলে মোহরের দাবী ত্যাগ করে ‘খোলা’-র মাধ্যমে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে (নাসাঈ হা/৩৫১০)। বরং স্বামী পূর্বে মোহরানা পরিশোধ করে থাকলে তা ফেরত দিয়ে ‘খোলা’ করে চলে যেতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩২৭৪)। অত:পর তার ইদ্দত হবে একমাস। কোন অবস্থায় বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। দ্রুত সুরাহা করা উচিত।

প্রশ্ন (৩৩/৩৫৩): চার রাক‘আত অথবা তিন রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের শেষ দু’রাক‘আতে কিংবা এক রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়তে হয় কেন?
-আবুল বাশার
গাড়াবাড়ী, কাথুলী, গাংনী, মেহেরপুর।
উত্তর: একটি সূরা পড়ার কারণ হ’ল রাসূলুল্লাহ (ছা:) একটি সূরা পড়তেন। তিনি ফরয ছালাতের প্রথম দু’রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য দু’টি সূরা পড়তেন। আর শেষ দু’রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়তেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৮২৮)। ইবাদত হ’ল তাওক্বীফী। যাতে কমবেশী করার বা কারণ জানার এখতিয়ার উম্মতের নেই।

প্রশ্ন (৩৪/৩৫৪): ছালাতের মধ্যে প্রথম রাক‘আতে এবং তৃতীয় রাক‘আতে সিজদার পর দাঁড়ানোর জন্য তাড়াতাড়ি উঠতে হবে না একটু থেমে উঠতে হবে?
-যিয়াউর রহমান
গাংনী, মেহেরপুর।
উত্তর: একটু থেমে উঠতে হবে। একে ‘জালসায়ে ইস্তিরাহাত’ বলা হয়। মালিক ইবনে হুওয়াইরিছ (রা:) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ছা:)-কে ছালাত আদায় করতে দেখেছেন যে, নবী করীম (ছা:) তাঁর ছালাতের প্রথম রাক‘আত কিংবা তৃতীয় রাক‘আত হ’তে উঠার সময় কিছুক্ষণ না বসে উঠতেন না (বুখারী, মিশকাত হা/৭৯৬)। হাঁটুর উপর ভর দিয়ে তীরের মত এক টানে উঠে যাওয়ার হাদীছ জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৫৬২)

প্রশ্ন (৩৫/৩৫৫): জনৈক বক্তা বলেন, কোন ব্যক্তি ছিয়াম পালন করতে সক্ষম না হ’লে তাকে ফিদইয়া দিতে হবে না। কারণ সূরা বাক্বারাহ ১৮৫ নং আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-মুখতার
বাগহাটা, নরসিংদী।
উত্তর: উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। ইমাম বুখারী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা:) হ’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, এটি ‘মানসূখ’ নয়। বরং এর অর্থ হ’ল, যাদের ছিয়াম রাখার ক্ষমতা নেই যেমন অতি বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা, তারা প্রতিদিনের ছিয়ামের বদলে একজন মিসকীন খাওয়াবেন (বুখারী হা/৪৫০৫ ‘তাফসীর’ অধ্যায় ২৫ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন: (৩৬/৩৫৬): বিবাহের পূর্বে অবৈধ সম্পর্ক হ’লে বিবাহের পর ঐ পাপ মাফ হবে কি?
-সুমন
কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
উত্তর: অবৈধ সম্পর্ক গড়া মহা পাপ। যার শাস্তি হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর (বুখারী, মিশকাত হা/৩৫৫৬)। এ অবস্থায় অনুতপ্ত হয়ে খালেছ তওবা করা আবশ্যক। নইলে গুনাহ মাফ হবে না।

প্রশ্ন (৩৭/৩৫৭): আমার শ্বশুর হানাফী মাযহাবের মানুষ। আমি তাদের অনুসরণ না করলে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। এখন আমার জন্য করণীয় কী?
 -মুখলেছুর রহমান
বাঁশদহা, সাতক্ষীরা।
উত্তর: মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহ:) বলেন, আল্লাহ কোন মানুষকে হানাফী, মালেকী, শাফেঈ, হাম্বলী (বা অন্য কোন মাযহাবপন্থী) হওয়ার জন্য বাধ্য করেননি; বরং কুরআন ও সুন্নাহ মানতে বাধ্য করেছেন (হাক্বীক্বাতুল খিযক্বহ ৮৫ পৃ:)। আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে, তার অনুসরণ কর। তিনি ব্যতীত অন্য কোন আউলিয়ার (অর্থাৎ অনুসৃত ব্যক্তির) অনুসরণ কর না। কিন্তু খুব কম লোকই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে’ (আ‘রাফ ৩)। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোন আনুগত্য নেই’ (শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/৩৬৯৬)। অতএব স্বশুরকে ছহীহ হাদীছ অনুসরণের আহবান জানিয়ে বুঝ দিতে হবে। কিন্তু যদি তিনি যিদ করেন ও চাপ সৃষ্টি করেন, তাহ’লে তাকে এড়িয়ে যেতে হবে ও স্বাভাবিক সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে এবং হকপন্থীদের অনুসারী হ’তে হবে’ (লোকমান ১৫)। এজন্য সম্পর্ক ছিন্ন করলে আল্লাহ্র নিকট তিনি দায়ী হবেন, আপনি নন।

প্রশ্ন (৩৮/৩৫৮): ইজতেমার আয়োজন করা যাবে কি? ইজতেমা বা ধর্মীয় সভার জন্য স্টেজ সাজানো কি শরী‘আত সম্মত?
-আব্দুল হাদী
যুগীখালী, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর: প্রয়োজনমত সাধারণভাবে স্টেজ করা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, কোন সম্প্রদায় যখন কোন স্থানে বসে দ্বীনী আলোচনা করে তখন ফেরেশতা তাদের ঢেকে নেয়, রহমত তাদের ঘিরে ধরে এবং তাদের উপর আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪)। অতএব শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের বসার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর জন্য প্যান্ডেল ও স্টেজ করা যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছা:) মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতেন। আবার হজ্জের সময় উঁচু টিলায় উঠে নিজের গাধার পিঠে বসে ভাষণ দিয়েছেন। তবে বাড়াবাড়ি কিছু করা যাবে না।

প্রশ্ন (৩৯/৩৫৯): যে ওযূ দ্বারা জানাযার ছালাত আদায় করা হয় সেই ওযূতে ফরয ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-ইউসুফ
বলরামপুর, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর।
উত্তর: যে কোন ছালাতের জন্য ওযূ করার পর ওযূ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অন্য ছালাত আদায় করা যাবে। আনাস (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা:) প্রত্যেক ছালাতের জন্য ওযূ করতেন। আমাদের কারো ওযূ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত একই ওযূতে বার বার ছালাত আদায় করতেন (দারেমী, মিশকাত হা/৪২৫)। ওযূ ভঙ্গ না হ’লে ছালাত আদায়ের জন্য পুনরায় ওযূ করা আবশ্যিক নয় (আবুদাঊদ হা/১৭১; আহমাদ মিশকাত হা/৪২৬, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৪০/৩৬০): নবী করীম (ছা:) কদরের রাত দেখেছেন কি? কদরের রাত কিভাবে বুঝা যাবে?
-আসমা
সিরাজগঞ্জ।

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (ছা:) কদরের রাত বুঝতে পারতেন (বুখারী, মিশকাতহা/২০৯৫)। কদরের রাত কোনটি তা অন্যদের জানা যরূরী নয়। রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেন, কদর রাতের  নির্দিষ্ট তারিখ না জানার মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে (বুখারী, মিশকাত হা/২০৯৫)। বরং কদরের রাতগুলোতে ইবাদত করা যরূরী। রাসূলুল্লাহ (ছা:) তাঁর পরিবারকে নিয়ে এ রাতগুলোতে রাত্রি জেগে ইবাদত করতেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৯০)